Ziaur Rahman was a prominent military officer and politician in Bangladesh, who served as the 7th President of the country from 1977 until his assassination in 1981. He played a significant role in shaping modern Bangladesh, especially in the political landscape. Here’s a detailed overview of his life, military career, and political history
জিয়াউর রহমান : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি – জীবন ও ইতিহাস
শৈশব ও শিক্ষা (১৯৩৬–১৯৫৭)
- জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি: জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) এর বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল জমিদার শ্রেণীর, এবং তার শৈশবকাল ছিল গ্রামীণ সমাজের মধ্যে, যেখানে তিনি সমাজ ও রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেন।
- শিক্ষা: জিয়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে তিনি উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য পাকিস্তানে যান এবং পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (পিএমএ) কাকুলে (বর্তমান কাবুল, পাকিস্তান) ভর্তি হন। সেখানে ১৯৫৫ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।
সামরিক ক্যারিয়ার এবং (১৯৬৫ ও ১৯৭১ ) ভূমিকা :
- ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ: ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় জিয়া মেজর হিসেবে কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধে তার সাহসিকতা এবং নেতৃত্ব তাকে সামরিক পদে উন্নীত করে।
- বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১): ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে মেজর হিসেবে কর্মরত অবস্থায়, জিয়া বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, জিয়া বাড়ির মধ্যে বন্দী অবস্থায় রেডিওর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বাঙালি জনগণকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়া মুক্তি বাহিনী (মুক্তিযুদ্ধের সেনা) সাথে মিলিত হন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- পরিচিতি: মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান তাকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয়, এবং তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা গভীর ছিল।
শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড (১৯৭৫):
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়েন। তার শাসনব্যবস্থার অসন্তোষ এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশব্যাপী বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, শেখ মুজিবুর রহমানকে একদল সেনা কর্মকর্তা হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। এই সময়ে জিয়া ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ ছিলেন এবং দ্রুত ক্ষমতার শূন্যস্থান পূরণের জন্য সামনে আসেন।
জিয়া চিফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর: শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর জিয়া চিফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (CMLA) হিসেবে ক্ষমতায় আসেন এবং দেশের অস্থিরতা শোধরানোর জন্য প্রথম দিকে সামরিক শাসন চালান।
- তিনি শেখ মুজিব হত্যার বিচার নিশ্চিত করেন এবং হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেন, যা কিছু জনসমর্থন অর্জন করে।
১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠান: ১৯৭৭ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে জিয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সপ্তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শাসন (১৯৭৭-১৯৮১) :
- সামরিক শাসন থেকে রাজনৈতিক শাসনে:
- জিয়া সামরিক শাসক হিসেবে শুরু করেছিলেন, তবে ১৯৭৯ সালে তিনি মার্শাল ল তুলে দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেন।
- ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বিএনপি তার নেতৃত্বে বিজয়ী হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতা, এবং মধ্যপন্থী সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- অর্থনৈতিক সংস্কার:
- জিয়া সরকারের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে গুরুত্ব দেয়। তিনি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কাজ করেন এবং দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনতে উদ্যোগ নেন।
- তার শাসনামলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ছিল উল্লেখযোগ্য।
- বৈদেশিক নীতি:
- জিয়া একটি নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করেন, যেখানে তিনি পাকিস্তান ও ভারতের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এর সাথে সম্পর্কের উন্নতি করেন।
- ১৯৮৫ সালে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- স্বৈরাচারী শাসন:
- যদিও জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন, তার শাসনকালে রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি প্রেসের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন।
হত্যাকাণ্ড (১৯৮১) এবং পরবর্তী ঘটনা :
- ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়ার হত্যাকাণ্ড:
- ১৯৮১ সালের ৩০ মে, চট্টগ্রামে এক মিলিটারি কুপ এর সময় জিয়া নিহত হন। একটি সেনা বিদ্রোহের সময় জিয়া হত্যা হয়। তার হত্যাকাণ্ডের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিরোধী সেনা কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অনেকেই ধারণা করেন।
- পরে পরিবার ও বিএনপি:
- তার স্ত্রী, খালেদা জিয়া, বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তার ছেলে তারিক রহমানও বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা :
- বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব:
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যা জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে থেকে গেছে। তবে, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ (শেখ মুজিবের পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দল) এর মধ্যে ক্রমাগত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
- পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব:
- খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর, বিএনপি তার নেতৃত্বে একাধিকবার ক্ষমতায় আসে।
- জিয়ার পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক গুরুত্ব রাখে।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যিনি সামরিক শাসক হিসেবে উঠে আসলেও, রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিদেশি সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। তার মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠা তাকে জাতীয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তবে তার শাসনকালে স্বৈরাচারী পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তার হত্যাকাণ্ড ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলেও, তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আজও অনুভূত হয়, বিশেষত তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি এর মাধ্যমে।